অভিনয়ে ব্যস্ত মৌসুমী

গেল ঈদে ছোটপর্দায় অভিনয়ে দেখা মিলেনি প্রিয়দর্শিনী মৌসুমীর। তবে এই ঈদে দেখা যাবে তাকে। এরমধ্যে তিনি একটি টেলিফিল্মের কাজও শেষ করেছেন। দু-একদিনের মধ্যে সিনেমার শুটিংয়ে কলকাতায়ও যাচ্ছেন।

‘নোলক’ সিনেমার বাকি অংশের শুটিং করতে আর দু-একদিনের মধ্যেই কলকাতা যাবেন মৌসুমী। সঙ্গে যাবেন তার স্বামী নায়ক ওমরসানীও। সেখানে মৌসুমী, ওমরসানী ও শাকিব খান ‘নোলক’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিবেন বলে জানিয়েছেন মৌসুমী নিজেই। এর আগে এই সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন তারা তিনজন রামুজি ফিল্ম সিটিতে।

মৌসুমী বলেন, ‘গল্পের প্রয়োজনে এখন আমরা তিন-চারদিন কলকাতায় শুটিং করব। এই চলচ্চিত্রে আমি ও সানী দুজনই আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করছি। গল্পটার মধ্যে দর্শকের ভালোলাগার মতো অনেক কিছুই আছে।

যে কারণে আমরা সবাই মনোযোগ দিয়ে কাজটি করছি। জানি না এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি কবে পাবে। তবে যখনই মুক্তি পাক না কেন, আমি খুব আশাবাদী যে এটি দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।’

মৌসুমী এখনো চলচ্চিত্রেই নিয়মিত অভিনয় করছেন। ছোট পর্দায় বিশেষ বিশেষ দিবসে তার উপস্থিতি মিললেও গেল ঈদে তাকে দেখা যায়নি। এর কারণ ছিল কোনো গল্পই তার মন ছুঁয়ে যায়নি। তবে এবারের ঈদে মৌসুমীকে একটি টেলিফিল্মে দেখা যাবে।

শ্রাবণ চক্রবর্তী দিপুর রচনায় ও নির্দেশনায় ‘কাঁদে মন কাঁদে ভালোবাসা’ টেলিফিল্মে মৌসুমীকে দেখা যাবে। এই টেলিফিল্মে আবারও একসঙ্গে অভিনয় করছেন তৌকীর আহমেদ ও মৌসুমী।

টেলিফিল্মের গল্পে তৌকীর আহমেদ ‘অপু’ চরিত্রে এবং মৌসুমী ‘বর্ষা’ চরিত্রে অভিনয় করছেন। গেল ১১ থেকে ১৩ জুলাই টেলিফিল্মটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে রাজধানীর উত্তরায় বিভিন্ন লোকেশনে।

গল্পে দেখা যাবে, বর্ষা ধনী বাবার একমাত্র মেয়ে। ভালোবেসে বিয়ে করে সাধারণ এক ছেলে অপুকে। কিন্তু অপুকে বিয়ে করার কারণে বাবার বাড়ি থেকে সারা জীবনের জন্য চলে আসতে হয় বর্ষাকে।

সংসার জীবনে পথ চলতে চলতে একসময় অপু বর্ষাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। বর্ষার জীবন থেকে অপু নিজেকে চিরদিনের জন্য সরিয়ে নিতে চায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হয় তা দেখতে চোখ রাখতে হবে টিভি পর্দায়।

টেলিফিল্মটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘দিপুর লেখা গল্পটাই মূলত আমাকে এই কাজটি করতে আগ্রহী করেছে। মৌসুমীর সঙ্গে আমার খুবই কম কাজ করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে মৌসুমী একজন বড় মাপের অভিনেত্রী।

যেহেতু গল্পটার মধ্যে আবেগের বিষয় আছে, তাই আমার ও মৌসুমীর আন্তরিক অভিনয়ের মধ্যদিয়ে সেই আবেগ যথাযথভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পরিচালক। আমি খুব আশাবাদী কাজটি নিয়ে।’

মৌসুমী বলেন, ‘তৌকীর ভাই নিঃসন্দেহে একজন ভালো মনের মানুষ। সহশিল্পীকে যথেষ্ট সম্মান দিয়ে কাজ করেন তিনি। অবশ্যই একজন গুণী অভিনেতা ও নির্মাতাও বটে। তার মনটা অনেক বড়। যে কারণে তার সঙ্গে কাজ করার সময় তার প্রতি অনেক শ্রদ্ধা নিয়েই কাজটা করার চেষ্টা করি।

দিপুর লেখা গল্পই মূলত আমাকে এই টেলিফিল্মে কাজ করার জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আশা করছি দর্শকেরও ভালো লাগবে। পরিচালক জানান, আসছে ঈদে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে ‘কাঁদে মন কাঁদে ভালোবাসা’ প্রচারিত হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে দেওয়ান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রযোজিত শেখ রিয়াজ উদ্দিন বাদশা পরিচালিত ‘আড়াল’ নাটকে তৌকীর আহমেদ ও মৌসুমী একসঙ্গে প্রথম অভিনয় করেন। এবারের ঈদে আরও দুটি নাটক-টেলিফিল্মে অভিনয় করার কথা রয়েছে মৌসুমীর। তবে এখনো নিশ্চিত নন তিনি কবে নাগাদ শুটিং করবেন।

মৌসুমী অভিনীত একে সোহেল পরিচালিত ‘পবিত্র ভালোবাসা’ সিনেমাটি ঈদের পর মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এতে তার বিপরীতে আছেন ফেরদৌস।

গেল ঈদে মৌসুমী অভিনীত উত্তম আকাশ পরিচালিত ‘চিটাগাংইয়া পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন ওমরসানী, শাকিব খান, বুবলী।